স্বর্ণবিহন প্রজাপতি

0 comments

যেন ছোট্ট একটি পাখি উড়ে গেল। কুচকুচে কালো ডানা আর হলদে শরীরের যেন এক উড়ন্ত সুন্দর। এর গায়ে যখন রোদের ছটা লাগল, তখন আশ্চর্য সুন্দর এক সোনালি আভা ছড়াল। তাই তো এর নামও দেওয়া হয়েছে স্বর্ণবিহন। না, গহিন কোনো বনে মনের সুখে উড়ে বেড়ানো কোনো পাখির কথা হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুরপাড়ে উড়ে বেড়ানো স্বর্ণবিহন প্রজাপতির একটি প্রজাতির নাম এটি। দুই দিন আগে বনের সীমানার বাইরে এই প্রথমবারের মতো এই প্রজাতির প্রজাপতিটির দ্বিতীয় প্রজন্ম আলোর মুখ দেখল। লার্ভা থেকে ডানা মেলল আস্ত এক প্রজাপতি। তাও আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের মিনি জীববৈচিত্র্য জার্মপ্লাজম কেন্দ্রে।


দেশের প্রাণিবিজ্ঞান গবেষণার নতুন এই সাফল্য এল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম এ বাশারের হাত ধরে। ২৫ বছর ধরে প্রজাপতি নিয়ে গবেষণা করা এই প্রবীণ অধ্যাপক ও তাঁর দলকে এ জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৫টি বছর। স্বর্ণবিহনকে তো বন থেকে এনে ছেড়ে দিলেই এরা ডিম পারবে না। ডিম থেকে লার্ভা স্তর পেরিয়ে প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়াবে না। এর জন্য প্রয়োজন তাদের ডিম পাড়ার উপযুক্ত ঈশ্বরমূল লতা। তার খাদ্যের জোগান দেবে এমন বুনো বৃক্ষের সারি। আর উড়তে উড়তে ক্লান্ত হলে দরকার ফলদ বৃক্ষের ছায়াশীতল পরশ।
প্রজাপতিদের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল এই প্রজাতির জন্য তিন স্তরের উদ্ভিদের সারি রোপণ করতে হয়েছে এম এ বাশার ও তাঁর দলকে। ওই উদ্ভিদগুলোতে ১৫ বছর ধরে লালন-পালন করে বড় করতে হয়েছে। স্বর্ণবিহনের বেঁচে থাকার জন্য ২২ থেকে ৩০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা থাকতে হয়। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের জন্য ওই কেন্দ্রেই তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম জলাশয়। কার্জন হলের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের পাশে ১০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট প্রস্থের ওই জার্মপ্লাজম কেন্দ্রেই রয়েছে ১২০ প্রজাতির উদ্ভিদ। এসবই স্বর্ণবিহনের দ্বিতীয় প্রজন্ম আসার পথ খুলে দিয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আকারের এই প্রজাপতি পুরো পাখা মেললে আয়তন হয় ২০-২২ সেন্টিমিটার।
অধ্যাপক আবুল বাশার এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণা সহায়তা তহবিলের আওতায় তিনি এই গবেষণাটি করছেন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে শহরের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে কীভাবে স্বর্ণবিহনের মতো বিলুপ্তপ্রায় প্রজাপতির প্রজনন ঘটানো। এই প্রথম ধাপ সাফল্যের সঙ্গে শেষ করতে পারার তৃপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি দেশের প্রতিটি জেলা শহরে এভাবে প্রজাপতিদের অভয়াশ্রম তৈরি করতে পারি, তাহলে মানুষের উপকারই বেশি হবে।’
আবুল বাশারের গবেষণায় দেখা গেছে, স্বর্ণবিহন প্রজাপতি একসময় দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট ও মধুপুরের বনে ছিল। কিন্তু প্রজাতিটি খুবই সংবেদনশীল। শব্দ এবং পরিবেশদূষণ হলে এরা টিকে থাকতে পারে না। এর কারণে এটি এখন শুধু সিলেটের সাতছড়ি ও রেমাকেলেঙ্গা বনে দেখা যায়। বাকি এলাকাগুলো থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে কৃত্রিমভাবে পরিবেশ তৈরি করে স্বর্ণবিহনের প্রজনন ঘটিয়ে তা বনে ছাড়লে বনের পরিবেশকে আরও স্বাস্থ্যকর করবে।


ইফতেখার মাহমুদ | প্রথম আলো
Continue Reading... Labels: , ,


বিধবা মাকড়শা

0 comments

আমাদের চারপাশে অনেক রঙ্গের অনেক আকারের মাকড়শা দেখা যায় । আমাদের ঘরে মাকড়শা জাল বুনে নোংরা করলেও কৃষিতে ক্ষতিকারক পোকামাকড় নিধনে বিভিন্ন প্রজাতির মাকড়শা প্রাকৃতিক ভাবে ফসলের উপকার করছে । তবে পৃথিবীতে কিছু কিছু মাকড়শা আছে যেগুলি অত্যন্ত বিষধর ও যার কামর মানুষের জন্য মারাক্তক হতে পারে । তেমনি এক মাকড়শা প্রজাতি "black widow spider" বিধবা মাকড়শা । তবে এরা অক্রমনাতক নয় ।
বিষধর বিচিত্র স্বভাবের এই মাকড়শা মিলনের পর পুরুষ মাকড়শাকে খেয়ে ফেলে তাই হয়তো এর নাম "black widow spider". বা বিধবা মাকড়শা । স্ত্রী ব্ল্যাক উইডো বা বিধবা মাকড়শা পুরুষ মাকড়শার চেয়ে তিন গুন বেশী বিষাক্ত হয় ।এবং আকারও পুরুষ মাকড়শার চেয়ে বড় হয় । এদের অস্বাভাবিক রকমের বড় venom গ্রন্থি আছে । "black widow spider” কামড়ে দ্রুত চিকিৎসা না নিলে মানুষ মারা যেতে পারে ।
এরা নিজ দেহ থেকে নিঃসৃত এক ধরনের সিল্কের আঁশ দিয়ে জাল বোনে । এই সিল্ক বা রেশম আঁশ সম-ব্যাসের ইস্পাতের তারেরমত মজবুত । পোকামাকড় শিকারের জন্য বিধবা মাকড়শা এমন জাল পাতে ।
"black widow spider” বা বিধবা মাকড়শা দেখতে সাধারণত কালো । এর ventrum underside লাল বালি ঘড়ির মত চিহ্ন থাকে ।স্থান ভেদে রং বা রূপের কিছুটা ভিন্নতাও আছে। স্ত্রী মাকড়শা আকারে ৩.৮ সেমি পর্যন্ত হয় । এরা ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত বাচে ।
পৃথিবীতে Theridiidae পরিবার ভুক্ত ৩২ টি এই মাকড়শা(Latrodectus) প্রজাতি আছে। অ্যামেরিকা, ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, পশ্চিম এশিয়া, মাদাগাছকার, অষ্ট্রোলিয়া, নিউজিল্যান্ড জুরে এই মাকড়শার বিভিন্ন প্রজাতির বাস ।
Continue Reading... Labels: ,


জোনাকি

0 comments

জোনাকি এক ধরনের পোকা। বিটিল শ্রেণীর এই পোকাকে ইংরেজিতে বলে লাইটিং বাগ বা ফায়ার ফ্লাই। বিটিল শ্রেণীর পোকাদের আছে অনেক ভাগ। শুধু ল্যামপাইরিডি পরিবারের বিটিল পোকাদেরই জোনাকি পোকা বলা হয়। যদিও এদের নামে ফ্লাই বলা হয় (ফ্লাই মানে মাছি), তবে এরা কেউই আসলে মাছি নয়। ছোট্ট কালচে বাদামী রঙের পোকা, একটু লম্বাটে গড়নের। পোকার পেটের পেছনে থাকে সেই আলো জ্বলা অংশ। আমাদের দেশ থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া-আমেরিকা পর্যন্ত অনেক দেশেই জোনাকি পোকা আছে। পৃথিবীতে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির জোনাকি পোকা আছে। এরা একেবারেই সাদাসিধে পতঙ্গের মতো। লম্বায় এক ইঞ্চিরও কম- দুই সেন্টিমিটার। পাখা আর মাথায় হলুদ লম্বা দাগ আছে। ছয়টা পা, দু’টো অ্যান্টেনা, অক্ষিগোলক আর শরীরটা তিন ভাগে বিভক্ত। প্রতিটি জোনাকি শরীরের শেষ ভাগে একটা করে বাতি নিয়ে ঘোরে। প্রত্যেক প্রজাতির জোনাকি পোকার আলো কিন্তু এক রকম নয়, আলাদা। কোনো কোনো জোনাকি পোকার আলোর রং সবুজ, কারো আলো হলুদ আবার কারো বা কমলা। শুধু রঙই আলাদা নয়, ওদের আলোর সঙ্কেতও ভিন্ন ভিন্ন।

নানা দেশে নানা নামে ইংরেজিতে এদের অনেক নাম ফায়ারফ্লাই, ফায়ারফ্লাই বিটল, গ্লো ওয়ার্ম, গ্লো ফ্লাই, মুন বাগ, লাইটেনিং বাগ, গোল্ডেন স্পার্কলার। জাপানিজরা হোটারু, জ্যামাইকানরা বিৎলংকি, মালয়ালামরা মিন্না-মিন্না, স্প্যানিশরা লুইসিয়েরনাগা, পর্তুগিজরা লাগা-লাম, মালয়রা কেলিপ-কেলিপ, কুনাং-কুনাং, অ্যাপি-অ্যাপি, জার্মানরা লুশেটক্যাফার, ফরাশিরা লুসিয়ল, ইতালিয়ানরা লুসিঅলা এবং থাইরা হিং হোয় বলে ডাকে।
আলো জ্বলা-নেভার কারণ জোনাকিরা অবিরাম আলো জ্বালায় না। ওদের আলো জ্বলে আর নেভে। কিন্তু কেন ওরা আলো জ্বালে তা কি জানো? তোমাদেরকে অন্ধকারে পথ দেখাতেই কি ওদের এই আলো জ্বালানো খেলা? একটু গরম ও বর্ষা পড়তেই জোনাকি পোকারা ওদের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। জোনাকি পোকাদের মধ্যেও ছেলে ও মেয়ে আছে। পুরুষ পোকারা স্ত্রী পোকাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার আশায় আলো জ্বেলে ঝোপ-ঝাড়ে উড়তে থাকে। আর মেয়ে পোকারা ঝোপ-ঝাড়ের নিচে, ঘাসের পরে, মাটিতে বসে মেয়ে পোকাদের জ্বালানো আলো দেখার অপেক্ষায় বসে থাকে। এবং বেছে নেয় বন্ধুকে। তখন মেয়ে পোকারাও আলো জ্বালতে থাকে। এজন্য জোনাকি পোকাদের চলমান বাতিও বলা হয়।

অনেক প্রজাতির জোনাকি পোকা আছে। কিন্তু এক প্রজাতির পোকার সাথে অন্য প্রজাতির আলোক সঙ্কেত হুবহু মেলে না। তাই নির্দিষ্ট প্রজাতির জোনাকি পোকারাই সেসব আলোক সঙ্কেত চিনে তার স্বজাতির পুরুষ পোকাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। সঙ্কেত ঠিক মতো না চিনতে পারলেই বিপদ! এক প্রজাতির মেয়ে জোনাকি পোকা কখনো অন্য প্রজাতির ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারে না, এটা ওদের সমাজে অন্যায়। যদি নেহায়েত এমন দুর্ঘটনা কখনো ঘটে যায়, তাহলে কাছে আসার পর মেয়েটো ছেলে জোনাকিকে ফাঁদে ফেলে মেরে ফেলে। আসলে জোনাকি পোকারা আলো জ্বেলে একে অপরের সঙ্গে সঙ্কেত আদান-প্রদানের মাধ্যমে কথা বলে, ভাব বিনিময় করে। আলো না জ্বললে এটা কখনো সম্ভব হতো না। ফলে জোনাকিদেরও আর কোনো বাচ্চা হতো না। আর পৃথিবী থেকে জোনাকিরা হারিয়ে যেত।
জোনাকিদের এই আলো জ্বালারও একটা রহস্য আছে। ওদের পেছনে বা লেজে দু’টো রাসায়নিক পদার্থ থাকেÑ লুসিফেরাজ ও লুসিফেরিন। লুসিফেরাজ একটি এনজাইম যা আলো ছড়ায়। আর লুসিফেরিন তাপ প্রতিরোধী যা আলোকে ঠাণ্ডা রাখে। জোনাকি পোকারা তার শক্তির শতভাগই আলোতে পরিণত করতে পারে। অন্যদিকে একটি সাধারণ বৈদ্যুতিক বাতি তার শক্তির মাত্র দশ ভাগ আলোতে পরিণত করতে পারে, বাকি নব্বই ভাগ শক্তিই তাপে পরিণত হয়। সেজন্য জোনাকির আলোতে কোনো তাপ হয় না।

জোনাকির ঘরবাড়ি

জোনাকিদের সব সময় দেখতে পাওয়া যায় না। তাহলে ওরা থাকে কোথায়? যায়ই বা কোথায়? জোনাকিরা সাধারণ ভেজা জায়গা পছন্দ করে। তাই জলাশয়ের ধারে ওদের বাড়ি বানায়। এর মানে এই নয় যে, ওদের খুব পানির দরকার। পুকুর, ডোবা, নালা, খাল, বিল, নদী একটা কিছু হলেই হলো। ওরা তার পাড় ধরে গজিয়ে ওঠা ঘাস ও ঝোপ-ঝাড়ে বাসা বাঁধে। লম্বা ঘাস ওদের পছন্দ। সেসব ঘাস বা ঝোপের গাছেই ওরা থাকে, গাছই ওদের ঘরবাড়ি। তবে ওদের সবসময় গাছে দেখা যায় না। দিনের বেলায় লুকিয়ে থাকে গাছের বাকলের তলে, গাছের গর্তে বা ফাটলে, শুকনো পাতার নিচে, ঘাসে। রাত হলেই বেরিয়ে আসে। শীতেও ওদের তেমন দেখা যায় না। ওরা স্যাঁতসেঁতে জায়গা পছন্দ করে। কোনো কোনো প্রজাতির জোনাকি পোকার বাচ্চারা জলে থাকে এবং সেখানে মাছের মতোই তারা প্রায় বছর খানেক বেঁচে থাকে। এন্টার্কটিকা মহাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর সব মহাদেশেই জোনাকি দেখা যায়।

খাবার-দাবার

জোনাকি পোকার বাচ্চারা মাটিতে, গাছের বাকলের নিচে ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় থাকে। তারা সেখান থেকে কেঁচো, শামুকের বাচ্চা ও পচা জায়গায় থাকা অন্যান্য পোকার বাচ্চা খায়। এমনকি পচা প্রাণী ও আবর্জনাও খায়। বাচ্চারা দেখতে অনেকটা শুকনো পাতার মতো, তবে খুবই ছোট। বাচ্চাদের মুখে কাঁচির মতো ধারাল এক ধরনের অঙ্গ আছে। সেটা দিয়েই ওরা শত্রুকে ঘায়েল করে। শত্রুর আকার বড় হলে কয়েকজন মিলে তাকে আক্রমণ করে। মুখের সামনের ধারাল অঙ্গ শত্রুর শরীরে ঢুকানোর সঙ্গে সঙ্গে ওরা এক ধরনের বিষ ছেড়ে দেয়, যার প্রভাবে শিকার অবশ হয়ে যায়। এরপর তারা সবাই মিলে সেটা খায়।
বড় হওয়ার পর বাচ্চাদের চেহারা বদলে যায়। তখন তারা আলো জ্বালতে শুরু করে। তবে কোনো কোনো প্রজাতির জোনাকির বাচ্চা এমনকি ডিম থেকেও আলো বের হয়। জোনাকিরা বড় হলে তারা মাত্র কয়েক মাস বাঁচে। তাই তখনো তাদের খেতে হয়। তবে আর তারা পচা আবর্জনা ও মরা প্রাণী খায় না। বড় হওয়ার পর তারা গাছ থেকে গাছে, ফুল থেকে ফুলে ঘুরে বেড়ায় আর পরাগরেণু ও মধু খায়। কখনো কখনো মেয়ে জোনাকিরা ক্ষেপে গেলে অন্য প্রজাতির পুরুষদের ভুলিয়ে ভালিয়ে কাছে ডেকে নিয়ে আসে ও তাদের কামড়ে খায়। দুষ্টুমি করেও তারা এটি করে। কিন্তু বড়রা বাঁচে অল্পদিন, মাত্র কয়েক মাস। বড় মেয়ে জোনাকিরা ডিম পাড়ার পরই মারা যায়, পুরুষরা মরে যায় তার আগেই।

জোনাকিদের শত্রু

এদেরও শত্রু আছে। তারা এদের শিকার করে খায়। এ জন্য জোনাকিরাও কম চালাকি জানে না। ওদের কেউ শিকার করতে এলে ওরা এক ফোঁটা রক্ত ছেড়ে দেয়। সেই রক্তবিন্দু যেমন তিতা তেমনি বিষাক্ত। তাই ওদের আর কেউ শিকার করতে আগ্রহ দেখায় না। এমনকি টিকটিকি, সাপও ওদের শিকার করতে সাহস পায় না। তাই বলে ভেব না যে ওরা দুর্বোধ্য, কেউই ওদের বধ করতে পারে না। বাদুড়ের সঙ্গে ওরা পেরে ওঠে না। রাতে বাদুড় বেশ ভালোই দেখতে পায়। তার ওপর আবার জোনাকিরা যখন আলো জ্বেলে চলাফেরা করে তখন বাদুড় ওদের শিকার করে খায়।

জোনাকিরা হারিয়ে যাচ্ছে

গবেষকরাও বলছেন, দুনিয়া থেকে নাকি জোনাকির সংখ্যা কমে গেছে। আর এই কমে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে আলো দূষণ। তোমার কাছে কথাটা অন্য রকম মনে হতে পারে। রাতের ঝলমলে আলোর কারণে কীট-পতঙ্গসহ নানা পশুপাখির খুব অসুবিধা হয়। বিশেষ করে যেসব প্রাণী নিশাচর, তাদের তো খুবই অসুবিধা। আর এটাই হচ্ছে আলো দূষণ। এই আলো দূষণের কারণেই কমে যাচ্ছে নিশাচর প্রাণী। এর মধ্যে জোনাকিও আছে। জোনাকিরাও নিশাচর।


জোনাকির সাতকাহন

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে এমন জোনাকিও আছে, যারা জ্বলে না।
ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বাতির ঝলকানির মতো কিছু জোনাকি ফ্ল্যাশ দিয়ে ধাঁধায় ফেলে দেয় শিকারিদের। তারপর সুযোগ বুঝে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করে।
কেবল পূর্ণবয়স্ক জোনাকি বা লার্ভা নয়, কিছু জোনাকির ডিমও জ্বলজ্বল করে।
কিছু জোনাকি লার্ভার বিষের থলি আছে। শিকারিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এগুলো ব্যবহার করে।
একটি বাতি থেকে উৎপন্ন শক্তির শতকরা ১০ ভাগ আলো আর ৯০ ভাগ উত্তাপ। কিন্তু জোনাকিদের উৎপন্ন শক্তির শতকরা ১০০ ভাগই আলো।
একটি জোনাকির শরীরের ওজনের অর্ধেকটাই বাতির ওজন।
জোনাকিরা দিনের বেলায়ও জ্বলে-নেভে। সূর্যের আলোর জন্য আমরা দেখতে পাই না।
Continue Reading... Labels: ,


সুইপোকা

0 comments

অদ্ভুত এক প্রাণী। সারা বাড়ি তছনছ করে দিতে এদের জুড়ি নেই। কাঠের দরজা-জানালা, আলমারি, খাট, ড্রেসিং টেবিল, আলনা_ সব কেটে ছারখার করে দিতে পারে নিঃশব্দে। বলা হচ্ছে উইপোকার কথা। সেলুলোজ ছাড়া কিছু খায়ই না ওরা। ফলে কাঠের ওপর তাদের নির্ভর করতেই হয়। একমাত্র গাছের কাছেই সেলুলোজ পেতে পারে! তাই ওদের কাঠ খাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। উইরা বেশির ভাগই বে-রংয়া।
উইপোকার সমাজের গল্প শুনলে মনে হবে মানুষের মতো বুদ্ধিসুদ্ধি আছে ওদের। বিস্ময়কর হলেও সত্য আমাদের সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে ওদের সমাজের অনেক মিল। ওদের সমাজে আছে_ পুরুষ, স্ত্রী, কর্মী ও রক্ষক। কর্মী ও রক্ষকদের বংশবৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে কোনো অবদান নেই। অবদান নেই বলা ভুল, আসলে তাদের সে ক্ষমতাই নেই। এরা কেবল কাজ করে। এদের না আছে ডানা, না আছে চোখ। নিজেদের গা থেকে ফেরোমোন হরমোন বের করে গন্ধ সৃষ্টি করে আর সেই গন্ধ শুঁকেই সবাই কাজকর্ম চালায়। স্ত্রীর আর পুরুষ উইদের ডানা গজায় বছরের কোনো এক বিশেষ ঋতুতে। তখন আকাশে উড়তে উড়তে উভয়ের মধ্যে মন দেওয়া-নেওয়া হয়। ডানা খসিয়ে এরপর এরা নেমে আসে মাটিতে। শুরু হয় তাদের বংশবৃদ্ধির পালা। স্ত্রী উইয়ের প্রথম দিকের সমস্ত ডিম থেকে কর্মী আর রক্ষী উইপোকা জন্মাতে থাকে। তবে কর্মীর তুলনায় রক্ষীর সংখ্যা অনেক কম। সবচেয়ে বেশি জন্ম হয় কর্মী উইয়ের। স্ত্রী উই যতদিন ডিম পাড়তে থাকে ততদিন পুরুষ ও স্ত্রীকে রক্ষক উইয়েরা তাদের চারদিক থেকে পাহারা দেয় এমনভাবে, যাতে রানী বা স্ত্রী উইয়ের কোনোরকম অসুবিধা না হয়। রক্ষী উইদের মাথাটা থাকে বাইরের দিকে আর লেজটা ভেতরের দিকে, যাতে শত্রুর আক্রমণ হলেই তক্ষুণি তার মোকাবিলা করতে পারে। কারও কারও নাকের ডগায় খড়গের মতো অস্ত্র থাকে, কখনোবা এমন ক্ষমতাও থাকে যাতে শত্রু এলে তার দিকে অ্যাসিড জাতীয় তরল পদার্থ নিক্ষেপ করতে পারে। আবার কোনো কোনো রক্ষীর কামড়ানোর মতো শক্ত দাঁত জাতীয় অংশও থাকে। মূল উদ্দেশে রানীর যেন কোনো ক্ষতি না হয়। রানীর এই ঘরটিকে বলে রয়্যাল চেম্বার। পুরুষ বা রাজা উই রানীকে এ অবস্থায় ছেড়ে কোথাও যায় না। স্ত্রীকে রক্ষা করাই তার একমাত্র কাজ। রক্ষী উইরা কিন্তু খাবার জোগাড় করতে যায় না। এ দায়িত্বটা দেওয়া আছে কর্মীদের ওপর। কর্মীদের কাজের কথা বলে শেষ করা যায় না। এদেরও চোখ, পাখনা কিছু নেই। নেই বংশ বৃদ্ধির ক্ষমতাও। কিন্তু সারাটা দিন কী যে নিরলস পরিশ্রম করে এরা ভাবতেই পারবে না। খাবার-দাবার জোগাড় করে আনা, বাচ্চারা যারা ডিম থেকে বেরুচ্ছে তাদের খাওয়ানো-দাওয়ানো, বড় করে তোলা, শুধু তাই নয়, বলম্মীকে বাড়িয়ে তুলে ছড়িয়ে দেওয়া যাতে বংশবৃদ্ধির পর থাকার জায়গার অভাব না হয় এসবই কর্মী উইয়ের দায়িত্ব। এবার রানী মায়ের কথা বলি একটি বল্মীকে যখন উইপোকার সংখ্যা কুড়ি থেকে ত্রিশ হাজার কিংবা তাও ছাড়িয়ে যায় তখন রানী মা এক এক করে কিছু পুরুষ ও কিছু স্ত্রী উইও প্রসব করে। এসব স্ত্রী-পুরুষও পরবর্তীকালে ঠিক একইভাবে বংশবৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করে। প্রথম যে পিতামাতা তাদের বলা হয় প্রাইমারি পেয়ার, পরের যেসব স্ত্রী-পুরুষরা এলো তারা হয় সেকেন্ডারি পেয়ার। কখনো কখনো যদি এমন হয় কোনো দুর্ঘটনায় রয়্যাল চেম্বারের প্রাইমারি পেয়ার এর রাজা রানী মারা গেলেন তাহলে সে ক্ষেত্রে এই সেকেণ্ডারি পেয়ার সেই শূন্যস্থান পূরণ করে। আবার এমনও দেখা গেছে, রাজা রানী বেঁচে থাকা অবস্থায়ই তারা অন্য একটি বল্মীকে তৈরি করে, সেখানে একটি নিজস্ব রয়্যাল চেম্বার বানিয়ে নতুন করে তাদের জীবনযাপন এবং বংশবৃদ্ধি শুরু করল। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো উইপোকা সেলুলোজ খায়, কিন্তু সেলুলোজ হজম করার মতো কোনো উন্নত ব্যবস্থা তাদের নেই। তাহলে কী করে হজম করে? ওদের পেটের ভেতর ওরা বাসা বাঁধতে দেয় এক ধরনের প্রোটোয়াকে। সেই প্রোটোয়া বা আদপ্রাণীটিই এই সেলুলোজকে ভেঙে জীর্ণ করার দায়িত্ব নিয়ে নেয়। আমাদের কাঠের জিনিস, দরজা-জানালা উইপোকা নষ্ট করে ঠিকই, সেটা তাদের বেঁচে থাকার তাগিদে। আবার দারুণ উপকারও করে ওরা। জঙ্গলের বিভিন্ন মরা গাছ থেকে যখন আহার সংগ্রহ করে তখন তারই ফাঁকে মরা কাঠকে এমন সব যৌগিক রাসায়নিক পদার্থে ভেঙে দেয় যার ফলে মাটিতে মিশে যাওয়া ওইসব পদার্থ থেকে নতুন প্রজন্মের গাছেরা তাদের খাদ্য উপাদান সংগ্রহ করে আর কিছু কিছু পদার্থ প্রকৃতির মধ্যে ফিরিয়ে দেয়, যার ফলে ভূ-রাসায়নিক চক্র তার আপন ছন্দে সঠিকভাবে পর্যায়ক্রমিক গতিতে এগিয়ে চলতে পারে।

Continue Reading... Labels: ,


ফোয়ারা প্রজাপতি

0 comments

এটি Nymphalidae গোত্রের এক প্রকার প্রজাপতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lebadea martha. এই প্রজাতির... প্রজাপতি বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম এলাকায় পাহাড়ি সবুজ বনাঞ্চলে বেশী পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও নেপালে, আসাম ও মায়ানমারে এদের দেখতে পাওয়া যায়।
বাংলা নামঃ ফোয়ারা
ইংরেজি নামঃ Knight

মাইন রানা
ছবিঃ লেখক
Continue Reading... Labels: ,


 

Sponsor

Return to top of page Copyright © 2010 | Flash News Converted into Blogger Template by HackTutors